ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তার আহ্বানের জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, রাহুল যদি সত্যিই বিতর্কে আগ্রহী হন, তাহলে রাস্তায় না গিয়ে সংসদে এসে আলোচনায় অংশ নিতে হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হবে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভারতের হরিয়ানার কার্নালে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অমিত শাহ এ কথা বলেন।তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। আমিও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—সাহস থাকলে সংসদে আসুন, আলোচনা করুন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন হলে সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত।অমিত শাহ বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে রাহুল গান্ধীর উচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখা এবং সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়া।এর আগে গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় দ্বিতীয়বারের মতো মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো স্থান ও মঞ্চ বেছে নিতে পারেন। সেখানে সংবাদমাধ্যম ও দেশের তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিতে দুজনের মধ্যে সরাসরি বিতর্ক হওয়া উচিত।রাহুলের অভিযোগ, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে এবং কে ভারতের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত—এসব প্রশ্নের জবাব প্রকাশ্য বিতর্কের মাধ্যমে দেওয়া প্রয়োজন। এর আগে সোমবারও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।এ ছাড়া রাহুলের দাবি, বিদেশি শক্তির সহায়তায় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং তার সরকারের অর্থনৈতিক নীতি বিদেশি স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত।মোদির বক্তব্য ঘিরে বিতর্কগত শনিবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।ওই অনুষ্ঠানে মোদি বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে বিদেশে কারা কার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছেন এবং ভারতের শত্রুরা কাদের সমর্থন করছে, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেন তিনি।মোদির বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের আহ্বান জানান রাহুল। এর পর থেকেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা আরও তীব্র হয়েছে।এসআইআর ইস্যুতেও রাহুলকে আক্রমণজনসভায় অমিত শাহ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। তার দাবি, ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এসআইআর ছাড়াই কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। একইভাবে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনেও এসআইআর ছাড়াই বিরোধীরা হেরেছে। তাই নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এসআইআরকে দায়ী করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।অমিত শাহের অভিযোগ, সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে রাস্তায় জমায়েত ও বিক্ষোভের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন রাহুল। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।পাশাপাশি রাস্তায় জমায়েত করে বিজেপি কর্মীদের উসকানি দেওয়া হলে তারা যথাযথ জবাব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সব মিলিয়ে এসআইআর, নির্বাচন এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।