হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৮৩ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট ১১১টি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছে কমিটি।সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে বিমানের দীর্ঘসূত্রতা এবং যাত্রীসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নাজিবুর রহমান ও কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওপর মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) প্রণীত এবং জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অডিট প্রতিবেদনের বিষয়ে আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিমানের ১১১টি অডিট আপত্তিতে মোট ৭৮৩ কোটি টাকা জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য জানান, ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরের অডিট আপত্তিও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিমান কর্তৃপক্ষ আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়। ইতোমধ্যে ১৩ কোটি টাকার আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ দাবির পক্ষে বৈঠকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আগামী বৈঠকে নিষ্পত্তির অগ্রগতির স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে বিমানের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির অর্থ যথাযথভাবে আদায় না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।এদিকে গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে ৩৪ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে। লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া, যাত্রী হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে তাঁরা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই অভিযোগের লিখিত জবাব না পাওয়ায় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক সংসদ সদস্য। এ সময় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।কমিটির সদস্য কামাল হোসেন এমপি জানান, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানি না পাওয়া এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন দীর্ঘ সময় জবাব দেওয়া হয়নি, বৈঠকে বিমানের এমডির কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী যাতে অবহেলা কিংবা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) আরও দক্ষ, সেবামুখী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং ব্যয়সংকোচনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।