শ্রমিকের ছদ্মবেশে কারখানায় উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে। কারখানা, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। শ্রমিক সেজে উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও উসকানিদাতারা শ্রমিকদের ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে মঙ্গলবার তেমন কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতাশ্রমিক আন্দোলন ও পুলিশ-বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনার পর মঙ্গলবার দিনভর গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মাঠে ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।সকালে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান। পরে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও পথসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, মেয়র পদপ্রার্থী সাইজুদ্দিন আহমেদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।দিনভর বিভিন্ন স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। বেলা ১১টার দিকে মৌচাক এবং দুপুর ১টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নামেন। তবে পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতায় তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।আটজন গ্রেপ্তারএদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।শিল্পাঞ্চলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।