শিরোপা ও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে এমবাপ্পে-ইয়ামাল, ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন
প্রথম দর্পণ, স্পোর্টস ডেক্স||
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৫১ সময়
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত হলেও ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল। দলীয় সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স এবং গোলের হিসাব—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দুজনকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।স্পেনের তরুণ তারকা ইয়ামাল ও ফ্রান্সের এমবাপ্পেকে ঘিরে পুরস্কার জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘাটতি তাদের পিছিয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।শিরোপাহীন মৌসুমে পিছিয়ে এমবাপ্পেব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আগেও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিলেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে চতুর্থ ও ২০২৩ সালে তৃতীয় হওয়ার পর এবার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ফরাসি তারকা। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছে প্রথম হওয়ার স্বপ্ন।এর পেছনে বড় কারণ রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীন মৌসুম। লা লিগায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বার্সেলোনার পেছনে থেকে মৌসুম শেষ করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২০২৪ সালে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পরও বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি এমবাপ্পে।জাতীয় দলের হয়েও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি তিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স।তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এমবাপ্পে ছিলেন উজ্জ্বল। লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫টি গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে আরও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতিও পান। এত গোল করার পরও দলীয় সাফল্যের অভাব ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের সামনে অবশ্য সুযোগ রয়েছে। আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগা কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি দলের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারলে ব্যালন ডি’অরের দাবিও জোরালো হবে।বিশ্বকাপে গোলের ঘাটতিতে ইয়ামালএমবাপ্পের মতো শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে হয়নি ইয়ামালকে। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার শিরোপাও জিতেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ফলে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক।বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার এই পারফরম্যান্সের কারণে অনেকে মনে করেছিলেন, সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড গড়তে পারেন স্পেনের এই তারকা।তবে বিশ্বকাপে গোলের হিসাবে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল করেন ইয়ামাল। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও গোলসংখ্যার ঘাটতি পুরস্কারের দৌড়ে তার অবস্থান দুর্বল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে সক্রিয় ছিলেন ইয়ামাল। সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেও গোলের চেষ্টা করেন। তবে গোল করতে পারলে তার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারত।সামনে সুযোগ দুই তারকারএমবাপ্পে ও ইয়ামাল—দুজনেরই বয়স ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অর জয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি বড় শিরোপা জয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কার্যকর ভূমিকা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও পুরস্কার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।