বর্ষায় কাদা-পানি, শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দ; কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের একটি কাঁচা সড়ক পাকা না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি। বর্ষায় কাদা-পানি আর শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিতে তাঁদের বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের পাকা সড়কের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।বর্ষায় চলাচল কঠিন, শুষ্ক মৌসুমেও দুর্ভোগকালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে গেছে সড়কটি। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এটি। সড়কটির পাশের মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে এ পথ ব্যবহার করেন।দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষায় কাদা ও পানি জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়। শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দের কারণে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলে বিপাকে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।ফসল পরিবহনে বাড়তি খরচসড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফসল পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার খরচও বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে সড়ক সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাঁদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।পাকাকরণের জন্য আবেদনকালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার যেসব সড়কের এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের সড়কটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে।তিনি জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সড়কের আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।