যৌতুক দাবির অভিযোগে হত্যা; ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, রায় ঘোষণার আগে থেকেই পলাতক আসামিসাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ও শিশুকন্যা আয়েশা সিদ্দিকা আক্তারকে হত্যার মামলায় আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আবদুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) একই উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।যৌতুক দাবি নিয়ে বিরোধমামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলামকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।এজাহারে বলা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।ঘরে মা-মেয়ের মরদেহএজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সময় সাইকেলের শব্দ শুনে জেগে ওঠেন জাহানারা খাতুন। পরে ঘরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকা আক্তারকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন। মামলার নথিতে আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির কথাও উল্লেখ রয়েছে।বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।