জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অর্ধশতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে।শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের প্রণীত কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতিপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী নারী ও শিশুরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা জরুরি।তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাশামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতির প্রসার, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।তহবিল ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে জোরজলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি কার্যকর জলবায়ু অর্থায়ন রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার ফলাফল বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।কপ-৩১-এ পাটের প্যাভিলিয়নসভায় শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব, জৈব অবক্ষয়যোগ্য ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের পাট তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করা হবে। পাটের তৈরি শৈল্পিক পণ্যের প্রচার ও বাণিজ্যিক প্রসারে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সভায় নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।