ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে বাড়ছে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট ও অ্যালগরিদমনির্ভর সুপারিশ নিয়ে ব্যবহারকারীদের অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ফিডে কী ধরনের পোস্ট, ভিডিও বা বিষয়বস্তু দেখা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়াচ্ছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব। নতুন বিভিন্ন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট সাজানো এবং অপছন্দের বিষয়বস্তু কমিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছেন।গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কালানুক্রমিক ফিডের পরিবর্তে অ্যালগরিদমনির্ভর কনটেন্ট সুপারিশের ব্যবহার বেড়েছে। এসব ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে পোস্ট বা ভিডিও দেখানো হয়। তবে অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্টের আধিক্যে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফিডের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিযোগ করেন।ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক টিম ওয়েনিংগারের মতে, অনলাইন কনটেন্ট বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের এ অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়েছে।পছন্দ অনুযায়ী ফিড সাজানোর সুযোগইনস্টাগ্রামে ‘ইউর অ্যালগরিদম’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক ভাষায় নিজেদের পছন্দ ও অপছন্দের বিষয় জানাতে পারেন। এর সাহায্যে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে ফিডকে ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়।টিকটকে রয়েছে ‘ম্যানেজ টপিকস’ ও ‘স্মার্ট কিওয়ার্ড ফিল্টারিং’ সুবিধা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন কনটেন্টের বিষয়ভিত্তিক উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নির্দিষ্ট শব্দসংবলিত ভিডিও ফিড থেকে বাদ দিতে পারেন।অন্যদিকে, ইউটিউবের ‘কাস্টম ফিড’ ফিচার দর্শকদের নির্দিষ্ট আগ্রহ অনুযায়ী আলাদা ট্যাব তৈরি করে কনটেন্ট সাজানোর সুযোগ দেয়। ওয়ার্কআউট বা এএসএমআরের মতো বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট আলাদাভাবে দেখার ক্ষেত্রে এ সুবিধা কাজে লাগতে পারে।ফেসবুকেও ফিডের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে এবং পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোন ফিচার কোন ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাচ্ছে, তা প্ল্যাটফর্মের সংস্করণ ও পর্যায়ক্রমিক উন্মুক্তকরণের ওপর নির্ভর করতে পারে।ব্যবহারকারীর পছন্দ বুঝতে চ্যালেঞ্জবিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীরা মুখে যে ধরনের কনটেন্ট পছন্দ করার কথা বলেন, তাঁদের অনলাইন আচরণ সব সময় তার সঙ্গে মেলে না। আবার নেতিবাচক বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্টে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রবণতা থাকলে অ্যালগরিদমও ব্যবহারকারীর প্রকৃত আগ্রহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারে।ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একদিকে ব্যবহারকারীদের নতুন ও প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট খুঁজে পেতে সহায়তা করা, অন্যদিকে তাঁদের নিজস্ব ফিডের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।নতুন ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখার সুযোগ বাড়ালেও অ্যালগরিদমের প্রভাব পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। তাই ফিডের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে এসব সুবিধার বাস্তব প্রয়োগ এবং ব্যবহারকারীদের পছন্দকে প্ল্যাটফর্মগুলো কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার ওপর।