আহত ৪, গুরুতর দুই ভাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছেমাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে এসে পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনায় স্থানীয়দের ধাওয়া ও গণপিটুনিতে তাইজুল সরদার (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই মহাসিন ও জহির চৌকিদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত তাইজুল একটি হত্যা মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত তাইজুল মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দি এলাকার রুস্তম সরদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি আলীনগর ইউনিয়নের মানিক সরদার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।বোরকা পরে এসে বোমা বিস্ফোরণ, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলাস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কালিগঞ্জ বাজারে হানিফের চায়ের দোকানের সামনে একটি অটোরিকশা থেকে বোরকা পরা চার যুবক নামেন। এরপর তাঁরা পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদার, মহাসিন ও জহির চৌকিদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে কয়েকজন আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যান। তাইজুলকে আটক করে স্থানীয়রা মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।গুরুতর দুই ভাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছেস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত মহাসিন ও জহির চৌকিদার আপন দুই ভাই। তাঁদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে জহিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।কালিগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ সরদার বলেন, দোকানের সামনে বোরকা পরা চারজনকে দেখে প্রথমে তাঁদের নারী ও ভিক্ষুক মনে হয়েছিল। অটোরিকশা থেকে নেমেই তাঁরা তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। একটি বিস্ফোরণে প্রচুর ধোঁয়া ছড়িয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর তাঁরা জহিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন। মিলন সরদার তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর শরীরেও রক্ত লাগে। পরে মহাসিনের ওপর হামলা চালানো হয়।ফিরোজ সরদার আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যান। তাইজুলকে আটক করার পর মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের সন্দেহমাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।