১১ কোটি টাকার প্রকল্পে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই মাটি নেওয়ার দাবি কৃষকদেরচট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে দেড় হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশের কৃষিজমি থেকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে একদিকে এলাকার সবুজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমির উর্বরতা ও চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।উপজেলার নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে এসব গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক মাস আগে গাছ কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুরপাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বাকি অংশেও গাছ কাটার আশঙ্কা রয়েছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে এখনো গাছ কাটা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, আরও প্রায় ৫০০ গাছ কাটা হতে পারে।কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়ার অভিযোগস্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে মাটির জোগান দিতে গিয়ে তাঁদের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে জমির বিভিন্ন অংশ কয়েক ফুট গভীর হয়ে গেছে এবং কিছু জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্মতি ও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কিংবা জমির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ১১ কোটি টাকাউপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় এলজিইডির অর্থায়নে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স।এলজিইডির লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণে প্রায় দেড় হাজার গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে, সেখানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে।ফসলি জমি থেকে জোর করে মাটি কেটে নেওয়া এবং গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গাছের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণে বন বিভাগদক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা এলজিইডির হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে গাছের সংখ্যা ও মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব বন বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল।তবে গাছ কাটার পরিবেশগত প্রভাব, পুনরায় গাছ লাগানোর সময়সীমা এবং কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।