কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুর্গাপূজা ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও আর্থিক সংকটে আনন্দ থেকে বঞ্চিত দুই শতাধিক রবিদাস পরিবার। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে এসব পরিবারের সদস্যদের। অর্থাভাবে সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কেনা কিংবা উৎসব উপলক্ষে বাড়তি খাবারের আয়োজন—কোনোটিই করতে পারছেন না অনেকে। আগের বছরগুলোতে সরকারি সহায়তা পেলেও এবার তা না পাওয়ায় হতাশা বেড়েছে তাদের মধ্যে।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার রবিদাস সম্প্রদায়ের বসতিতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজা চললেও পরিবারগুলোর মধ্যে উৎসবের তেমন আমেজ নেই। অভাব-অনটনের কারণে অনেকের ঘরেই নেই পূজার বিশেষ আয়োজন।উপজেলায় ৮০০ রবিদাস পরিবারস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ রবিদাস পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা এসব পরিবারের অধিকাংশের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোই কঠিন। ফলে ধর্মীয় উৎসবেও নতুন পোশাক ও উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা।পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার বাসিন্দা ভুলুয়া রবিদাস (৬৩) বলেন, “উৎসব শুরু হলেও আমাদের মতো পরিবারগুলোর মধ্যে আনন্দ নেই। অতি কষ্টে দিন কাটে। ছেলে-মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ব্যবসা প্রায় অচল। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে।”তিনি জানান, অন্যান্য বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।একই এলাকার জোসনা রবিদাস (৫৫) বলেন, পূজা উপলক্ষে নতুন কাপড় কেনা হয়নি। তিনবেলা পেট ভরে খাওয়াই কষ্টকর। পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও তাদের ঘরে উৎসবের আনন্দ নেই।ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার চৈতা রবিদাস (৭৭) এবং বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে জানান, অর্থাভাবে পূজার কেনাকাটা করতে পারেননি তারা। বছরে একবার দুর্গোৎসব এলেও দারিদ্র্যের কারণে সেই আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগউপজেলা রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, অন্যান্য বছর সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি দেওয়া হতো। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পূজা উপলক্ষে তাদের সহায়তা করা হলে পরিবারগুলো উপকৃত হতো।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। আগের বছরগুলোতে পূজা উপলক্ষে তাদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরিদ্র রবিদাস পরিবারগুলোর মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে তিনি শুনেছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. আরিফ বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে যারা দরিদ্র, তাদের সহায়তা করা হবে।দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও উলিপুরের দরিদ্র রবিদাস পরিবারগুলোর কাছে এবারও উৎসবের চেয়ে দৈনন্দিন জীবনের সংকটই বড় হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এসব পরিবারের শিশুদের মুখেও উৎসবের হাসি ফুটতে পারে।