উল্লাপাড়ায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ; বালুর দখল নিয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কাসিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় ফুলজোড় নদী খননের পর স্তূপ করে রাখা বালু অবাধে উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিলামসংক্রান্ত জটিলতার সুযোগে ড্রেজার বসিয়ে বালু সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খাসজমি ও স্থানীয় কৃষকদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বালুর দখল ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা, বালু ব্যবসায়ী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করতোয়া-ইছামতি-ফুলজোড় নদী ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ফুলজোড় নদী খনন করা হয়। খনন করা বালু হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় পাশাপাশি দুটি স্থানে খাস ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, স্তূপ করা বালুর একটি অংশ জমির মালিকদের দেওয়ার পর অবশিষ্ট বালু নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিলামে এসব বালুর মালিকানা পায় আবুল কালাম আজাদের প্রতিষ্ঠান মান ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে নিলামের মাধ্যমে বালু বিক্রি শুরু হওয়ার পর একটি পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নিলাম বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সামনে স্তূপ করে রাখা বালুও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ড্রেজিং ও উত্তোলিত বালু ব্যবস্থাপনায় গঠিত জেলা কমিটির এ সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবিতে পরবর্তী সময়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ।নিলাম বাতিলের পরও বালু উত্তোলনস্থানীয়দের অভিযোগ, নিলাম বাতিলের পর থেকে আলোকদিয়ার ওই দুটি বালুর স্তূপ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। এ চক্রের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবদুল কাদের জিলানী ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনসহ কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।জমি ইজারাদার হিসেবে ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালুর একাংশের মালিকানা দাবি করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, বালু সরানোর নামে খাসজমি ও স্থানীয় কৃষকদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।শনিবার দিনভর ওই এলাকায় ড্রেজার ও বালুবাহী ভলগেট ব্যবহার করে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করতে দেখা যায় বলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর করে জমি কেটে বালু তোলা হচ্ছে।বাধা দিতে গিয়ে হাতাহাতিঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং কৃষকদের জমি কাটার অভিযোগে স্থানীয়দের নিয়ে প্রতিবাদ জানান সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সামিদুল ইসলাম। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।এ ঘটনার পর বালু উত্তোলন ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতির অবনতি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষাস্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও জমি কাটার ঘটনা চললেও তা বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জনবলসংকটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিন রেজা বলেন, “আলোকদিয়া থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, জমির সীমানা কেটে নেওয়া এবং নিলাম বাতিলের পর বালুর মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তথ্যসূত্র: সরেজমিন অনুসন্ধান, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিন রেজার বক্তব্য।