কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে চলবে কার্যক্রম, ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠনকুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর সংগঠনটির মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এখন থেকে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মহানগরীর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে ছয় দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে সংগঠনদলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কুমিল্লা মহানগরীর সংগঠন ও ইমারাত বিলুপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে।কুমিল্লা মহানগর সংগঠনের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে।তদন্তে আজহারুল ইসলাম ও মুহাম্মদ শাহজাহানগত ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে গঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলের আমিরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।কী ঘটেছিল কার্যালয়েদলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে গত বুধবার দলীয় কার্যালয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন যুবক কার্যালয়ে ঢুকে হইচই করার পর একটি গাড়ি ভাঙচুর করে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।ঘটনার পর বুধবার দেওয়া তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ জানান, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক সভাস্থলে ঢুকে হইচই করে এবং চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি সাংগঠনিক বিষয় এবং সাংগঠনিকভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।এবি পার্টির নেতাকে সাময়িক অব্যাহতিএদিকে কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ের ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না কেন, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।জামায়াত কার্যালয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।