ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। আহ্বায়ক বা সভাপতি এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামানসহ একাধিক নেতা।গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিলুপ্ত করা হয় মহানগর উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও। এরপর থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় যারাসম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তাঁকে সভাপতি করার দাবিতে গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং প্রথম সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারও আমিনুল হকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে মাঠে সক্রিয় থাকা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনও।সদস্যসচিব পদে আলোচনায় মোস্তফা জামানসাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান। এ পদে যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।এ ছাড়া সাবেক কমিশনার ও বিলুপ্ত কমিটির প্রথম সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজি ইউসুফ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং যুবদল মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নামও আলোচনায় রয়েছে। নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে আরও কয়েকজন নেতা তৎপর রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।সিদ্ধান্ত নেবেন নীতিনির্ধারকেরানতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা। এ প্রসঙ্গে এস এম জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, দলের নীতিনির্ধারকেরা সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীতের ভূমিকা মূল্যায়ন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে অতীতে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পালনের চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।তবে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব।