ফরিদপুরের সালথায় ডালিম বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির টয়লেট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুরগি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।নিহত ডালিম বেগম ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।মুরগি নিয়ে বিরোধ, মারধরের অভিযোগপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডালিম বেগমের পোষা মুরগি প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে যাতায়াত করত। এ নিয়ে প্রায় এক মাস আগে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ডালিম বেগমের দুটি মুরগিকে বিষ দিয়ে এবং কয়েকটি মুরগিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে অসুস্থ প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে যাওয়ার সময় কামরুল মোল্যার উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কামরুল মোল্যা (৪০), তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম (৪৫) ও ভাতিজা ইমামুল মোল্যা (২৪) ডালিম বেগমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সালিশের পরদিন উদ্ধার মরদেহপ্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কামরুল মোল্যার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ডালিম বেগম।এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাঁর বাড়ির টয়লেট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে কামরুল মোল্যা, কল্পনা বেগম ও ইমামুল মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।মরদেহ মর্গে, আইনগত প্রক্রিয়া চলছেসালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।