উদ্ভাবনী ও মেধাবী তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সোমবার বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে স্বল্প সুদের ঋণের ফলে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। গড়ে উঠেছিল নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তিনি এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছি’রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র অর্জনের পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সুযোগের অপব্যবহার করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, অতীতে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশ পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিগত লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।রাষ্ট্রপতি সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।‘এআই বিজনেস সামিটে’ আমন্ত্রণসাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল আয়োজিত আসন্ন Bangladesh AI Business Summit 2026-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।