বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠীতে জমিদার আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে কলসকাঠী শিবমন্দির। ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মন্দিরটি স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ প্রাচীন শিবলিঙ্গটি ভারতের বেনারস থেকে এনে এখানে স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শিবলিঙ্গটি বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িয়েস্থানীয় বাসিন্দা সুজয় বিশ্বাস জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মন্দিরটিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা মন্দিরের শিবলিঙ্গটি ভাঙার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। শিবলিঙ্গটি অক্ষত থাকলেও পাশের নন্দীর মূর্তির মুখের সামান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেই ক্ষতচিহ্ন এখনো মন্দিরটিতে দৃশ্যমান। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার অংশ নয়, বরং একাত্তরের সহিংসতার স্মারক হিসেবেও বিবেচিত।সাবেক ইউপি সদস্য সাধন কুমার গাঙ্গুলী বলেন, কলসকাঠী শিবমন্দিরের সঙ্গে জমিদার আমলের ইতিহাস, স্থানীয় সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণের পাশাপাশি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কলসকাঠীর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে।সংরক্ষণের উদ্যোগবাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, কলসকাঠীর শিবমন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উপাসনালয়। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় খুব শিগগিরই স্থাপনাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।