যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইরান ভীত নয়, আবার উচ্ছ্বসিতও নয়—প্রয়োজনে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাতেও প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানিয়েছেন।রোববার (৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান পূর্ণ শক্তি নিয়ে সামরিক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো নতুন পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কূটনীতির পথও খোলা রাখা হবে।গালিবাফ বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে সামরিক ময়দানে রয়েছি। নতুন চমক নিয়ে তাদের মোকাবিলা করব। একই সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কূটনীতির মাধ্যমও ব্যবহার করব।’হরমুজ খুলতে সাত শর্তইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দেওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে।তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, জুনে সম্পাদিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ অনুযায়ী নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।এর আগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট সমঝোতার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড