জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মামলার আসামিদের বিচার দাবি করেছেন গুলিবিদ্ধ দুই সাক্ষী হাসান গাজী ও আল আমিন।রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি শেষে তারা এ দাবি জানান। নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে যথাক্রমে একাদশ ও দ্বাদশ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তারা।আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বর্ণনাজবানবন্দিতে হাসান গাজী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তার দাবি, শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানসহ অন্য আসামিরা এবং ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের মিছিলে ককটেল ও গুলি ছোড়েন।একপর্যায়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে গুলিতে তার বাম হাঁটুতে আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। চিকিৎসা নিলেও ওই আঘাতের কারণে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।হাসান গাজীর দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও শামীম ওসমানের লোকজন হাসপাতাল ঘিরে রাখে। পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তার কথা বলে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। পরে বাড়িতে ফিরে যাওয়ায় যথাযথ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।জবানবন্দি শেষে হাসান গাজী ট্রাইব্যুনালের কাছে মামলার আসামিদের বিচার দাবি করেন।গুলিতে আহত আল আমিনও সাক্ষ্য দেনঅন্য সাক্ষী আল আমিন জানান, তার বয়স প্রায় ২৪ বছর। আগে অটোরিকশা চালালেও বর্তমানে তিনি বেকার। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।তার ভাষ্য, আন্দোলনের সময় পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে মামলার অন্য আসামিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তার পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে।চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বলে জানান আল আমিন। ওই ঘটনায় আরও অনেক ছাত্র-জনতা আহত ও নিহত হয়েছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।জবানবন্দি শেষে আল আমিনও মামলার আসামিদের বিচার দাবি করেন।