ভারতকে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমানভাবে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত কোনো শাসককে আশ্রয় দেওয়াকে যদি ভারত ‘প্রতিবেশীর দায়িত্ব’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যার সময় সেই দায়িত্ব কোথায় থাকে?ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, মানবাধিকার ও দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন।সীমান্ত হত্যা নিয়ে প্রশ্নস্ট্যাটাসে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২১টি সীমান্ত সহিংসতার ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি থাকার পরও নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের জীবন কেন যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না—এ প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা।এ ছাড়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাংলাভাষী বাসিন্দাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নথিবদ্ধ করেছে বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।‘সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সমতা’নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তবে এসব সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও ন্যায্য স্বার্থ।তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে ভারত ‘প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরিতে গত এক দশকে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞ এবং তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।অমীমাংসিত ইস্যুতে সমতার ভিত্তিতে আলোচনানদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়নসহ দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।তিনি আরও বলেন, ‘অখণ্ড ভারত’ কিংবা আধিপত্যবাদী যেকোনো রাজনৈতিক কল্পনা বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ কোনো দেশের অধীনস্থ ভূখণ্ড বা ‘পিছনের উঠান’ নয়। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ‘বড় ভাই-ছোট ভাই’ ধারণার পরিবর্তে দুই সার্বভৌম প্রতিবেশীর সমমর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।