প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।