সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’। চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১ ও ২ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।‘শিল্প—সংস্কৃতি—সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা’ স্লোগানে আয়োজিত উৎসবে পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এতে চুনারুঘাটে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই ছিল উৎসবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চুনারুঘাটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। চুনারুঘাটকে সারাদেশের একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল হক চৌধুরী।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, হবিগঞ্জ জজকোর্টের পিপি মোহাম্মদ আবদুল হাই, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম, চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু, চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান। এ ছাড়া সংগঠনের উপদেষ্টা ও কার্যকরী কমিটির সদস্য, স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।চিত্রাঙ্কন থেকে লোকনৃত্যউৎসবের প্রথম দিন বিকেলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুতুল তৈরি, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।দ্বিতীয় দিন দুপুরে ‘এসো রঙিন করি মুখ’ কর্মসূচির পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা’ ও মণিপুরী নৃত্য, ত্রিপুরাদের ‘হোজাগিরি’, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল, ঝুমুর ও সমবেত নৃত্য পরিবেশন করা হয়।আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের পর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় কবি চন্দ্রাবতী রচিত বিখ্যাত নাটক ‘মলুয়া’। পরে প্রখ্যাত শিল্পী লাভলী দেবের সংগীত পরিবেশনা ও গাজীর গীতের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।৩৭ বছরের সাংস্কৃতিক পথচলা১৯৮৯ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে চুনারুঘাট সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ। দীর্ঘ ৩৭ বছরের পথচলায় সংগঠনটি সমাজ, মানুষ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতেও সংগঠনটি কাজ করছে।