কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক সৌদি আরবপ্রবাসীর বাড়িতে দিনের বেলায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, আলমারি ভেঙে ১৫ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব পেন্নাই এলাকার দুধনিয়া মেম্বারের বাড়িতে প্রবাসী আবুল কালামের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি নেকলেস, এক জোড়া চুড়ি, তিনটি চেইন, সাতটি আংটি এবং আট জোড়া কানের দুল। এ ছাড়া আলমারিতে রাখা ৯০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ঘটনার দিন সকালে আবুল কালামের স্ত্রী নিলুফা আক্তার হজে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য পাসপোর্ট আনতে কুমিল্লায় যান। তখন বাড়িতে ছিল তাঁর সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আরমান। সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আরমান বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে যায়।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিলুফা বাড়িতে ফিরে একটি কক্ষের আলমারির ড্রয়ার এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বর্ণালংকার ও টাকা না পেয়ে তিনি অন্য কক্ষগুলোতে খোঁজাখুঁজি করেন। এ সময় ওই কক্ষের দক্ষিণ পাশের স্টিলের দরজার ছিটকিনি খোলা এবং পশ্চিম পাশের রান্নাঘরের ওপরের এক্সহস্ট ফ্যান খোলা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।পরিবারের ধারণা, আরমান মুঠোফোনে গেম খেলায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে চোরেরা বাড়িতে ঢুকে কোনো একটি কক্ষে লুকিয়ে থাকতে পারে। পরে আরমান বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বের হলে তারা আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে দক্ষিণ পাশের দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। তবে চুরির প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।নিলুফা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম প্রায় ২৮ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাঁদের বড় ছেলে নাঈম ইতালিতে থাকেন। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে চুরির ঘটনায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন। বিষয়টি দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হবে এবং তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।