সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও তাঁর প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৬০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে প্রলয় কুমারের নামে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ টাকা এবং তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।এ ঘটনায় প্রলয় কুমারের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুদক। বুধবার সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।দুদকের অনুসন্ধানে প্রলয় কুমারের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই অনুসন্ধানে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামেও আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।দুদকের অভিযোগ, চাঁদাবাজি ও চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশে-বিদেশে আবাসিক সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সম্পদের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।প্রাথমিক অনুসন্ধানে সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রলয় কুমারের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস ও অর্জিত সম্পদের হিসাব যাচাই করা হবে।বিদেশে সম্পদের অভিযোগ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রলয় কুমারের বিদেশে সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় আসে। চার দেশে তাঁর ছয়টি বাড়ি রয়েছে—এমন অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে একজন আইনজীবী দুদকে আবেদন করেন। বিদেশে সম্পদ গড়তে অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়।তবে দুদক জানিয়েছে, সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশের অনুমোদন অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পদের উৎস এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।হত্যা মামলায় আসামি২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে চলে যান প্রলয় কুমার জোয়ারদার। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় করা একাধিক হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।