সালমানের স্টুডিওতে হামলা:জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাতে জুলাইয়ের রাজপথের সহযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় চাঁদা না দেওয়া অথবা সম্পত্তি দখল—এ দুই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আবার এবার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আসনে। প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলা কিংবা সম্পত্তি দখলের দুঃসাহস কাদের হতে পারে?’আইনগত পথ অনুসরণের আহ্বানকোনো স্থাপনা অবৈধ হলে বা কেউ দখল করে রাখলে তা উদ্ধারে আইন ও আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, আইনি পথ বাদ দিয়ে সারাদেশে ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণ কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগপোস্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগও তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নতুন নয়; ৫ আগস্ট বিকেল থেকেই এর সূচনা হয়েছে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের তরুণরা বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর থাকার সময় বিএনপির কথিত সন্ত্রাসী বাহিনী সারাদেশে আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজি ও দখলদারির ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণে নেয়।তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ‘শোষণের সাম্রাজ্য’ দখলের পরও তারা থেমে থাকেনি; বরং চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের পরিমাণ ও পরিধি কয়েকগুণ বেড়েছে।সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসবের বিচার চাওয়া অর্থহীন।তবে শেষ পর্যন্ত চাঁদাবাজদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে চাঁদাবাজদের জিম্মিদশা থেকে প্রিয় মাতৃভূমি মুক্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ।’সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নাহিদ ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিএনপির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।