ইউএপিএ প্রয়োগ নিয়ে ভারতের সমালোচনায় মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন
প্রথম দর্পণ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক||
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১১:৩৩ সময়
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক ও দমনে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act—UAPA) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (USCIRF)। সংস্থাটি ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ব্রিটিশ নাগরিক ও শিখ অধিকারকর্মী জগতার সিং জোহালের মামলাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে এ আহ্বান জানায়। দিল্লি হাইকোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর ইউএপিএ-সংক্রান্ত মামলায় জোহালকে জামিন দেয়। তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের মামলা চলমান রয়েছে।খালিদ ও ইমামের মুক্তির আহ্বানUSCIRF বলেছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামসহ কয়েকজন ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা’ সংশ্লিষ্ট বন্দি দীর্ঘদিন ধরে বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র মামলায় খালিদ ও ইমাম প্রায় ছয় বছর ধরে বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন এবং তাদের বিচার এখনো শুরু হয়নি।সংস্থাটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএসহ বিভিন্ন আইনে মামলা করা হয়েছে। USCIRF-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনেও খালিদ ও ইমামকে বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন আটক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।জোহালের মামলা নিয়ে বিতর্কজগতার সিং জোহালকে ২০১৭ সালে পাঞ্জাবে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬-১৭ সালে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। USCIRF তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও অন্যায্য বলে দাবি করেছে এবং তার দীর্ঘ আটককে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দমনের বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।তবে এসব অভিযোগ ও USCIRF-এর মূল্যায়ন ভারতের পক্ষ থেকে অতীতে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নয়াদিল্লি কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে। সর্বশেষ বিবৃতির বিষয়ে ভারত সরকারের নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এ ছাড়া USCIRF-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।