আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, বড় ভাইয়ের স্ত্রী বা বড় ভাবি মায়ের মতো। পারিবারিক স্নেহ, মমতা ও দায়িত্বের কারণে অনেকেই বড় ভাবিকে মায়ের মর্যাদা দিয়ে থাকেন। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বড় ভাবিকে মায়ের মতো গণ্য করার সুযোগ আছে কি না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।তিনি বলেন, বড় ভাবিদের অনেকেই দেবর-ননদের প্রতি স্নেহ-মমতা দেখান এবং নানা ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে থাকেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা তাদের মায়ের মতো মর্যাদা দিতে পারেন—এটি সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়। কিন্তু পর্দার বিধানের ক্ষেত্রে বড় ভাবিকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোরআন-হাদিসে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে মায়ের মতো বলা হয়নি। ফলে মায়ের সঙ্গে যেমন পর্দার বিধান প্রযোজ্য নয়, বড় ভাবির ক্ষেত্রেও তেমন নয়। বরং এ ক্ষেত্রে ইসলামে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ রয়েছে।তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ভাবি-দেবরের সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, ‘ভাবিদের জন্য তাদের দেবররা মৃত্যুর মতো।’ একইভাবে পুরুষদের জন্য স্ত্রীর বোন বা শ্যালিকার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে ‘মৃত্যু’ শব্দের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যথাযথ দূরত্ব ও সতর্কতা বজায় রাখার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। কারণ এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা বেশি থাকে।তিনি আরও বলেন, বড় ভাবিকে মায়ের মতো মনে করে শরিয়তের পর্দার বিধান শিথিল করার কারণে সমাজে নানা ধরনের অনাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই বড় ভাইয়ের স্ত্রী হোক বা ছোট ভাইয়ের স্ত্রী—দেবরের জন্য তাদের সঙ্গে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।একইভাবে কোনো নারীর জন্য ভাসুর বা দেবর মাহরাম নন। পুরুষের জন্য স্ত্রীর বোন বা শ্যালিকাও মাহরাম নন। ফলে এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরিয়তের পর্দার বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এসব ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও শরিয়তের বিধান পরিবর্তিত হয় না। বরং ফিতনার আশঙ্কা থাকায় সতর্কতা ও পর্দা আরও গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা প্রয়োজন।