শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে শুধু মোবাইল সরিয়ে নেওয়া নয়, প্রয়োজন পরিবারে সচেতনতা, নির্দিষ্ট নিয়ম এবং বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা। ১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ব্যবহারে ভারসাম্য আনতে অভিভাবকদের পরিকল্পিত ও ধৈর্যশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণপ্রথমেই মোবাইল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যেতে পারে। পড়াশোনা, খাওয়া ও ঘুমের সময় মোবাইল ব্যবহার না করার পারিবারিক নিয়ম করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত।মোবাইলের বিকল্প তৈরি করুনশিশুদের মোবাইল থেকে দূরে রাখতে তাদের জন্য আনন্দদায়ক ও সৃজনশীল বিকল্প তৈরি করা জরুরি। খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, নাচসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করলে মোবাইলের প্রতি নির্ভরতা কমানো সম্ভব।একই সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি মোবাইলনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।অভিভাবকদেরও হতে হবে সচেতনশিশুর সামনে অভিভাবকের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। বড়রা যদি সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে শিশুরাও তা অনুসরণ করতে পারে। তাই পরিবারের সবাই মিলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ‘নো মোবাইল আওয়ার’ বা মোবাইলমুক্ত সময় চালু করা যেতে পারে।পড়াশোনার সময় মোবাইল অন্য কক্ষে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনের সুবিধা ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো শিশুদের বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা দরকার।প্রশংসা ও উৎসাহশিশু নির্ধারিত নিয়ম মেনে চললে তাকে প্রশংসা করা বা ছোট পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তবে পুরস্কার বা শাস্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে মোবাইলকে ব্যবহার না করাই ভালো।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জোর করে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে শিশুর জন্য আনন্দদায়ক, শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল বিকল্প কার্যক্রম তৈরি করা। ধৈর্য, ভালোবাসা এবং নিয়মিত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব।