প্রচলিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বাজারের বাইরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একক মাস হিসেবে অপ্রচলিত বাজারে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানি আয়। দীর্ঘদিন প্রায় স্থির থাকা এসব বাজারে এ প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি এসেছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৫৮০ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার। আগস্টে তা বেড়েছে ৬২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে রপ্তানি আয় ছিল ৫৬৫ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছিল। তবে আগস্টের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিতে প্রথম দুই মাসে এসব বাজারে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ১৪৮ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৭৪ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।বাড়ছে মাসিক গড় আয়ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় আয় ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মাসিক গড় রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার।বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধান বাজার। তবে এসব অঞ্চলে চাহিদার ওঠানামা, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানিকারকেরা নতুন ক্রেতা ও গন্তব্য খুঁজছেন। এ অবস্থায় অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়াকে বাজার সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে এ প্রবৃদ্ধি কতটা স্থায়ী হবে, তা বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের পোশাকশিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদহার ও ব্যবসায়িক ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগস্টের রেকর্ড রপ্তানি দেখাচ্ছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি বিকল্প গন্তব্যেও বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। জুলাই-আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে ১ হাজার ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হওয়ায় চলতি অর্থবছরে এসব বাজারের অবদান আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধিইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৪৪৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ১৩০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার।আগস্টে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মাসটিতে মোট পণ্য রপ্তানি ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৩০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৯২০ মিলিয়ন ডলার।এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ হাজার ১৬৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার। আগস্টে নিট পোশাক রপ্তানি ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৭৪ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।নতুন বাজারেও বাড়ছে রপ্তানিঅপ্রচলিত বাজারের পাশাপাশি কয়েকটি নতুন গন্তব্যেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। আগস্টে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।এসব বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।