সরকারকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেছেন, জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনি টেনেহিঁচড়ে নামাতেও পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা এবং জনগণের দাবি উপেক্ষা করার জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সরকারের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। মনে রাখবেন, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।’দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নুরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লায় নিহত অপ্রতিমের মা-বাবা সন্তান হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। অথচ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরকারের প্রতি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে আসছে না।তিনি আরও দাবি করেন, গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ উদ্ধার হলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারি হিসাবের বাইরেও প্রতিদিন শিশু নিখোঁজ হওয়ার দাবি করেন তিনি।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিজুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সংবিধান সংস্কারের কাজও এগোচ্ছে না। জনগণের যুক্তিসঙ্গত দাবি এবং গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, সরকার একদিকে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে কালক্ষেপণ করে বিভিন্ন দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছে। তরুণ সমাজ এসব বিষয় বুঝতে পারে না—এমনটা মনে করার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তিত হতে পারে, তা ওই আন্দোলনে স্পষ্ট হয়েছে।জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাঅনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম বলেন, আত্মগঠন ও মেধার বিকাশের মাধ্যমে ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। যতক্ষণ একজন শিক্ষার্থী ভালো কাজ ও সাফল্যের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, ততক্ষণ পরিবার ও সমাজ তার প্রশংসা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। এতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।