ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন চেরকুঘাট সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। নির্মাণকাজ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়নি। তবে বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও উৎসাহ।স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি মাসেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। সেতুটির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামকে আনার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয়দের আশা, দ্রুত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুটি খুলে দেওয়া হলে শুধু সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে না, এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে। বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।১৭ গ্রামের যোগাযোগ সহজ হবেউপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত টাঙ্গন নদী কোষারানীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের শালগড়া, ডাঙ্গীপাড়াসহ ১৭টি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছিল।এ অবস্থায় ওই এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে ভামদা গ্রামে টাঙ্গন নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৬০ মিটার। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।সেতুটি চালুর অপেক্ষায় থাকলেও এরই মধ্যে এটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সবুজ মাঠের মাঝখানে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতুটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। বসানো হয়েছে দোলনাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলার রাইড।খুশি স্থানীয়রাশিক্ষক ওয়ালিউর রহমান মিঠু ও সাইফুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গন নদীর পূর্বপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল চেরকুঘাট সেতু। সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এলাকার মানুষ আনন্দিত। সেতুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মানুষের সমাগম বাড়ছে।কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চেরকুঘাট সেতু নির্মিত হয়েছে। এতে ১৭ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে তাদের সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।তিনি জানান, সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুজন গ্রাম পুলিশকে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে।নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের দাবিউপজেলা প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ করা হয়েছে। এতে ভালো মানের রড, সিমেন্ট ও ব্ল্যাক স্টোন ব্যবহার করা হয়েছে।ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জানান, ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি সেতুটির জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছিলেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুটি জনগণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার অপেক্ষা।