কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের নির্বাচিত ৩৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ইনোভেশন ফেয়ার কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত করাই মেলার মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাজারমুখী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিন স্টলে প্রদর্শিত হবে ৩৬ প্রকল্পমেলায় বাকৃবি তিনটি স্টলে অংশ নেবে। এসব স্টলে কৃষিপণ্য, প্রাণীস্বাস্থ্য, প্রাণিজ উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি প্রযুক্তিসংক্রান্ত ৩৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পোস্টার ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।এ ছাড়া বাকৃবিকে নিয়ে নির্মিত ভিডিও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান গবেষণা কার্যক্রম পোস্টার, লিফলেট ও ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।আয়োজকরা জানান, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।মেলায় বাকৃবির গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁইয়া এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আহসান কবীর।তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বাকৃবির গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।কৃষক-উদ্যোক্তা পর্যায়ে বাজারজাতের আশাসংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বাকৃবির অসংখ্য অর্জন রয়েছে। ইনোভেশন ফেয়ারের মাধ্যমে এসব অর্জন দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রদর্শিত উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগুলো কৃষক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করবে। শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নিয়ে অর্জিত জ্ঞানকে কীভাবে ‘নলেজ ইকোনমি’তে রূপান্তর করা যায়, সে সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবে।অংশ নেবে ৭৩ বিশ্ববিদ্যালয়আয়োজকরা জানান, ইনোভেশন ফেয়ারে ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।উদ্ভাবন প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলার তিন দিনে ছয়টি প্লেনারি সেশন, ছয়টি প্যারালাল সেশন এবং পাঁচটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে ১৭টি সেশন ও সংলাপের আয়োজন থাকছে।সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।