কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনাবাজ-বড় ভবানীপুর এলাকার বাজারখোলা খালের ওপরের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সেতুটি পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণউপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা সেতুটির ওপর দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয়রাও হেঁটে সেতুটি পার হচ্ছেন। পারাপারের সময় অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক দেখা যায়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।দুর্ভোগে ১৫-১৬ গ্রামের মানুষস্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের মানুষ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পার হতে হয়। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও স্বজনদের আতঙ্কে থাকতে হয়।সেতুর পাশের বাড়ির বাসিন্দা সাহেব আলী, রোমানা খাতুন, আবু সুফিয়ানসহ অনেকেই বলেন, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে এই সেতু পার হওয়া খুবই কঠিন। কখন গাড়িসহ যাত্রী নিচে পড়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি একই অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এটি দিয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থীরাও আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবদাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় অবগত রয়েছে। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।তিনি বলেন, দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও সাত থেকে আটটি সেতু বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব সেতুর বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, মেরামতের উপযোগী প্রায় ৭০টি সেতু চিহ্নিত করে সেগুলোর তালিকা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে এসব সেতু মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।