পাইলসের চিকিৎসার পর অনেকেই রক্তপাত, ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে স্বস্তি পান। মলত্যাগও সহজ হয়ে আসে। তবে কিছুদিন বা কয়েক মাস পর একই ধরনের উপসর্গ আবার দেখা দিতে পারে। এর অর্থ সবসময় এই নয় যে আগের চিকিৎসা কার্যকর হয়নি। কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা এবং জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের কারণে পাইলসের উপসর্গ পুনরায় দেখা দিতে পারে।কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে যেতে পারেপাইলসের চিকিৎসার পরও এর পেছনে থাকা মূল কারণ দূর না হলে সমস্যা আবার দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে মল শক্ত হয়ে যায় এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়। চিকিৎসায় ফোলা টিস্যুর সমস্যা কমলেও কোষ্ঠকাঠিন্য ও অতিরিক্ত চাপের অভ্যাস অব্যাহত থাকলে মলদ্বারে আবার চাপ তৈরি হতে পারে।২০২২ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় হেমোরয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্যের হার বেশি। এতে মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদি উপকারের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোরের সমন্বয়জনিত সমস্যা থাকলে সেটিও সমাধান করা প্রয়োজন।পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়াচিকিৎসার সময় অনেকে বেশি পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং টয়লেটে কম সময় কাটানোর মতো অভ্যাস গড়ে তোলেন। কিন্তু উপসর্গ কমে গেলে অনেকেই আবার আগের জীবনযাপনে ফিরে যান।কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, মলত্যাগের চাপ আটকে রাখা এবং মলত্যাগের সময় জোর করার মতো অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। পাশাপাশি টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও মলদ্বারে চাপ বাড়াতে পারে।২০২৫ সালে Frontiers in Surgery-এ প্রকাশিত ৫৮০ জনের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় মলদ্বারের রোগে আক্রান্তদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ২০ মিনিটের বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকার প্রবণতা বেশি ছিল। তবে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকাই সরাসরি পাইলসের কারণ—গবেষণাটি এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি।কিছু আক্রান্ত টিস্যু থেকে যেতে পারেসব ধরনের চিকিৎসায় পাইলসের আক্রান্ত টিস্যু সম্পূর্ণভাবে দূর হয় না। পাইলসের সংখ্যা, আকার ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী কখনও ধাপে ধাপে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কিছু আক্রান্ত টিস্যু থেকে গেলে পরবর্তী সময়ে আবার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।চিকিৎসার অল্প সময়ের মধ্যেই একই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নতুন করে পাইলস হয়েছে ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।মলদ্বারে বাড়তি চাপের অন্যান্য কারণকোষ্ঠকাঠিন্য ছাড়াও দীর্ঘদিনের কাশি, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে মলদ্বারের আশপাশে চাপ বাড়তে পারে। এসব কারণ অব্যাহত থাকলে শুধু পাইলসের চিকিৎসা করলেই সমস্যার সব উৎস দূর নাও হতে পারে।তাই উপসর্গ ফিরে এলে পাইলসের চিকিৎসার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপ তৈরির কোনো কারণ এখনো রয়েছে কি না, সেটিও খুঁজে দেখা জরুরি।উপসর্গ অন্য রোগের কারণেও হতে পারেআগে পাইলস হওয়ার কারণে মলদ্বারে রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলেই অনেকে সেটিকে পাইলসের পুনরাবৃত্তি মনে করেন। কিন্তু একই ধরনের উপসর্গ মলদ্বারের অন্যান্য রোগেও দেখা দিতে পারে।তাই চিকিৎসার পর নতুন করে রক্তপাত, ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে নিজে থেকে সেটিকে পাইলসের সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উপসর্গ নতুন, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।