কুমিল্লার চান্দিনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনভর প্রচার-প্রচারণা চালানোর পর রাতে আকস্মিকভাবে মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার রাতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।এর কয়েক ঘণ্টা আগে সুহিলপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার দিনভর সুহিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল সাইফুল ইসলাম খোকনের। মৃত্যুর দিনও তিনি তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা হতবাক হয়ে যান।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু সবাইকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর প্রয়াত বাবার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।