কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট বন্ধ
মোঃ রায়হান চৌধুরী, (নিজস্ব প্রতিবেদক)||
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:২৩ সময়
কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে গেটগুলো বন্ধ করা হয়। এ সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ৯৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান।এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হয়।পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে গেট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে স্পিলওয়ের গেট সর্বোচ্চ ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। এতে বিপুল পরিমাণ পানি স্পিলওয়ে দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হয়।কাপ্তাই পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। টানা বৃষ্টিতে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমাতে ১৬টি গেট দিয়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।এদিকে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় টারবাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের গেট খোলা থাকায় ভাটিতে পানির প্রবাহ আরও বেড়েছিল।তবে গত কয়েক দিনে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে আসায় রোববার রাতে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে স্পিলওয়ে দিয়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়েছে। এখন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পানি নিষ্কাশন অব্যাহত থাকবে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে স্পিলওয়ের গেট আবার খোলা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।