দিনাজপুরে থানায় এসে সিআইডির এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও থাপ্পড় মারার অভিযোগে জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মজিবুর রহমান মজিব দিনাজপুর পৌর শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার শেখ ইসমাইলের ছেলে।এ ঘটনায় সিআইডি কর্মকর্তা মো. নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মজিবুর রহমান মজিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করতে রোববার রাতে কোতোয়ালি থানায় যান সিআইডি কর্মকর্তা মো. নওয়াবুর রহমান। নথিপত্র সংগ্রহের পর তিনি ওসি কক্ষের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একজন ব্যক্তি এসে তাকে ‘ওসি কোথায় আছেন’ বলে জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে নওয়াবুর রহমান নিজের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি মামলার তদন্তের কাজে থানায় এসেছেন এবং ওসি কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না বলে জানান।এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে মজিবুর রহমান মজিব সিআইডি কর্মকর্তার গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি আকস্মিকভাবে স্তম্ভিত হয়ে যান।ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের কক্ষে থাকা এসআই (নি.) মো. মানিক রানা, এসআই (নি.) মো. মমিনুর রহমান, কনস্টেবল মো. রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।এজাহারে আরও বলা হয়, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সিআইডি কর্মকর্তার পরিচয় আসামিদের জানালে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় সিআইডি কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশ্লীল ও মানহানিকর কথাবার্তা বলা এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তারা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে যান।বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হলে তিনি মজিবুর রহমানকে থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে ডিউটি অফিসার তাকে হেফাজতে নেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সিআইডি কর্মকর্তা নওয়াবুর রহমান এ ঘটনায় মামলা করেন।দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, মজিবুর রহমান মজিবকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।