রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপি নেতা ও মাতুয়াইল মেডিকেল ইউনিটের সভাপতি মো. সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।বুধবার (২৯ জুলাই) মাতুয়াইল মেডিকেলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পথে সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে সামছুর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।বক্তারা বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, পুলিশ চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত কেন তা করা হয়নি, সে বিষয়ে প্রশাসনের জবাব দেওয়া উচিত।তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তারা সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ১৬ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নতুন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ নিরাপদ জীবন প্রত্যাশা করে।এদিকে, ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা. সামছুন্নাহার কদমতলী থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ওই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডের শামীমবাগ আবাসিক এলাকার একটি কালভার্টের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর পথরোধ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন ধারালো ছুরি দিয়ে তার পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ছুরিটি অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মানববন্ধন থেকে বক্তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।