ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর হাতাহাতির ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। তবে শেষ বাঁশি বাজার পর বিজয় উদযাপনের মুহূর্তেই দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৯৩তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে শিরোপা হারায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ফিফা ইতোমধ্যে একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। তিনি পুরো ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করবেন।তদন্তে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, কারা এতে জড়িত ছিলেন এবং কার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হতে পারে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তবে তদন্ত শেষ হতে কত সময় লাগবে কিংবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি ফিফা।বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মাঠের উত্তেজনা এখন গড়িয়েছে তদন্তের টেবিলে। ফিফার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।