বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মুমিনূনের ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াত প্রকাশ করা হয়েছে। আয়াতগুলোতে একজন মুমিনের মৌলিক চারটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে—নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা, অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা, যাকাত আদায় এবং চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা।পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চারটি আয়াত মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব ও নৈতিক চরিত্রের একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দেয়। কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা এসব গুণ অর্জন করতে সক্ষম হবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন।আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় বলা হয়, নামাজ কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং একাগ্রতা, বিনয় এবং আল্লাহর উপস্থিতির অনুভূতির মাধ্যমে তা আদায় করাই প্রকৃত খুশু। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল, পরনিন্দা ও সময় নষ্টকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এছাড়া যাকাতকে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে চারিত্রিক পবিত্রতার প্রসঙ্গে বৈধ সম্পর্কের বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে আত্মসংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে কারণে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরআন-হাদিসভিত্তিক বার্তা প্রকাশ নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দলটি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের আদর্শিক অবস্থানও স্পষ্ট করার চেষ্টা করে।বিশ্লেষকদের অভিমত, সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে ধর্মীয় ও নৈতিক বার্তা প্রচার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। একই সঙ্গে এটি দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি কৌশলগত যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।