শুধু নান্দনিক ফুটবল নয়, প্রয়োজনে কঠিন শরীরী লড়াইয়েও ফ্রান্স যে সমান দক্ষ—বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারানোর পর এমন বার্তাই দিলেন দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান শক্তিশালী এই ইউরোপীয় দল। গোলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের শারীরিক চ্যালেঞ্জেরও কার্যকর জবাব দিয়েছেন ফরাসি ফুটবলাররা।ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপকালে এমবাপ্পে বলেন, “অনেকে মনে করে আমরা শুধু আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলি। কিন্তু পরিস্থিতি যদি কঠিন হয়, শরীরী লড়াই করতে হলেও আমরা পিছিয়ে থাকি না। এমন ম্যাচ খেলতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”হাস্যরস মিশিয়ে তিনি আরও বলেন, “ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা যেন টাক্সিডো পরে মাঠে নেমেছি। কিন্তু প্রয়োজন হলে কঠিন ফুটবলও খেলতে জানি। আজ সেটাই করেছি এবং এমন লড়াইয়েও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।”ম্যাচের প্রথমার্ধে ৩০ মিনিটের দিকে এমবাপ্পেকে পেছন থেকে টেনে ধরেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার আন্দ্রেস কুবাস। ঘটনাটি ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও রেফারির দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক ও শারীরিক কৌশল নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ফরাসি অধিনায়ক। তার ভাষায়, “এটাই তাদের খেলার ধরন। ফুটবলে ভালো বা খারাপ খেলার আলাদা কোনো সংজ্ঞা নেই। শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়। তারা আমাদের নিজেদের খেলায় আটকে রাখতে চেয়েছিল, আমরাও তাদের একইভাবে মোকাবিলা করেছি।”শেষ আটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। একই রাতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।আসন্ন ম্যাচে দীর্ঘদিনের ক্লাব সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফ হাকিমির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “আমার মনে হয় হাকিমি ইতোমধ্যেই আমাকে বার্তা পাঠিয়েছে। তবে এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচে। মরক্কো দারুণ একটি দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি এবং নিজেদের সেরাটা দিয়েই মাঠে নামব।”বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স এখন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে।