জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহাসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।সোমবার (২২ জুন) দুপুরে জামালপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন— মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা (৬৫), উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (৫৫), সিধুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মেজবা উদ্দিন (৬৫), সিধুলী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনার (৫৮), শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি সুলতান (৪৫), সিধুলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ফজল (৪৫), আওয়ামী লীগের কর্মী আওয়াল মোল্লা (৪৫), সাইফুল ইসলাম সাইরুদ্দিন (৪৮), আব্দুর রাজ্জাক (৫৮) ও লাভলু (৪৫)।আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মাদারগঞ্জ থানায় নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন এবং বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলাগুলোর বাদী ছিলেন। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।মামলার নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার অভিযুক্ত ১০ নেতাকর্মী আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন প্রার্থনা করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।জামালপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মাহবুবুর রহমান সোহেল বলেন, “নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা দুটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।”সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন।