ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে মানুষ ‘পুশইন’ করার ঘটনাকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আগ্রাসী ও বৈরী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সীমান্তে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতিরও পরিপন্থী।সাইফুল হকের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কয়েকশ মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক।তিনি বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়া এসব মানুষের অনেকেই খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় তাদের জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, কোনো দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম করানো গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে অবিলম্বে সীমান্তে পুশইন কার্যক্রম ও হত্যা বন্ধ করতে হবে। একদিকে বন্ধুত্বের কথা বলা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা ভারতের দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিএসএফের সাম্প্রতিক পুশইন তৎপরতার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ, অসন্তোষ ও নিন্দা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।