দেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৫তম জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট। এতে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে বাজেটের আকার কয়েকশ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মাইলফলকে পৌঁছেছে।গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া।অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় রাজস্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।