আসন্ন হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও নানা সমীকরণ। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হাটিকুমরুল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যেই সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার নাম স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সলঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে মনোনয়ন দিয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্ন সমীকরণেরও আভাস মিলছে। দলের যুব বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত উজ্জ্বল সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জুয়েল রানা নাফি। তিনি জাতীয় যুব শক্তির সলঙ্গা থানা শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক নাম। এর মধ্যে থানা যুবদলের সদস্য ইলিয়াস হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা গোলাম আম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ খাঁন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে আব্দুল মজিদ খাঁনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদান এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ বিষয়ে আব্দুল মজিদ খাঁন বলেন, “জনগণের আস্থা ও সমর্থনই আমার রাজনৈতিক শক্তির প্রধান উৎস। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় সিদ্ধান্তে আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদান মূল্যায়িত হবে বলে আশা করি।”তবে বিএনপি ও এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।