ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। বৈঠকে তারা বলেন, গত এক মাস ধরে সীমান্ত এলাকায় অনিয়মিতভাবে বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।নেতৃবৃন্দের মতে, ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করলে কিংবা কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। বন্দিবিনিময় চুক্তি, নাগরিকত্ব যাচাই এবং দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব। এসব প্রক্রিয়া এড়িয়ে কাউকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।বৈঠকে বলা হয়, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ একতরফা কোনো ব্যবস্থা মেনে নিতে পারে না। কেবল ভাষা বা ধর্মীয় পরিচয়কে ভিত্তি করে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থি।খেলাফত মজলিসের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি উত্থাপন করার দাবি জানান তারা।সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তৎপরতার প্রশংসা করে সংগঠনটি এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং এবং ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। :::