সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলায় ইজারা নেওয়া একটি পুকুর থেকে গোপনে মাছ তুলে বিক্রি এবং জামানত হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির দাবি করে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রিপন আলী।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাদপুর মৌজার এস দাগ নং-৩৬২/৭৮৫-এর ১৮ শতক আয়তনের একটি পুকুর ১০ বছরের জন্য ইজারা নেন হাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিপন আলী। তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তিনি ২ লাখ টাকা জামানত প্রদান করেন এবং মাসিক ৪ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে পুকুরটি ভোগদখলের অধিকার লাভ করেন।
রিপন আলীর ভাষ্য, ইজারা গ্রহণের পর তিনি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে দীর্ঘদিন পরিচর্যা করেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, পুকুরটি অন্যত্র ইজারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার অজান্তেই মাছ তুলে বিক্রি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ মে রাতের কোনো এক সময়ে পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে বিক্রি করা হয়। এতে তার প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ইজারার সময় জামানত হিসেবে দেওয়া ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলেও অভিযুক্তরা জানিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় দাদপুর গ্রামের মো. ইকবাল হোসেন (৫০) ও মো. ফরিদুল ইসলাম (৪৮)-এর নাম উল্লেখ করে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রিপন আলী বলেন, “বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তারা আমাকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বা অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”