এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা ইবতেদায়ি শিক্ষকদের
প্রথম দর্পণ, ডেস্ক||
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, সকাল ৬:৩৫ সময়
এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা ইবতেদায়ি শিক্ষকদেরঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা বন্ধ রাখা এবং ‘ঈদ বর্জনের’ ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা রোববার সন্ধ্যায় এক সভায় এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’র সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এমপিওভুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলো বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ঈদ বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। ঈদের দিন আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা করব।”এর আগে রোববার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে পথে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে প্রেসক্লাব এলাকায় ফিরে এসে তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।আজ টানা পঞ্চম দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছে। মাদ্রাসাগুলোতে রোববার থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। এরপর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।তবে এরই মধ্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা তিন হাজার টাকা করে অনুদান পান। এছাড়া আরও প্রায় ৫ হাজার ৯৩২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো সরকারি কোনো অনুদান পায় না।ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক স্তর হিসেবে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এখনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি সুবিধার বাইরে রয়েছেন।এর আগে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত ও পরবর্তীতে জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।